মেহেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মুজিবনগর উপজেলা খাদ্য অফিস চলে পরিচ্ছন্নকর্মী দিয়ে। দেড় বছরের অধিক সময় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুজজামান অতিরিক্ত দায়িত্বে উপজেলা খাদ্য অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক আহসান কবীর অফিসে না করেও যশোরে বসেই বেতন তুলছেন জেলা কর্মকর্তার সহযোগীতায়।
চলতি বছরের মার্চ মাসে ১ দিন জেলা কার্যালয়ে আসলেও ঈদ পরবর্তী সময়ে একদিনও অফিস করেননি। অফিসের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন পরিচ্ছন্নকর্মী রায়হান উদ্দীন।
মঙ্গলবার (৯ মে) সরেজমিনে মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নিচ তলায় উপজেলা খাদ্য অফিসে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নেই। যেহেতু জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
কিন্তু অফিসের মুল দ্বায়িত্ব পালনকারী উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক আহসান কবীর অফিসে নেই। খাদ্য পরিদর্শক সদর অফিসে আছেন বলে জানালেন অফিসের পরিচ্ছন্নকর্মী রায়হান উদ্দীন।
তবে কথাবার্তার এক পর্যায়ে রায়হান উদ্দীন স্বীকার করেন যে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক আহসান কবীর ঈদের কিছুদিন আগে মেহেরপুর জেলা অফিসে এসছিলেন কিন্তু তার পরে আর আসেননি।
কর্মকর্তা কর্মচারীদের হাজিরা খাতার বিষয়ে জানতে চাইলে অনেক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তিনি নিরাপত্তা প্রহরী সাইফুল আযমের কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি জানান হাজিরা খাতা তার কাছে মেহেরপুরে রয়েছে।
পরিচ্ছন্নকর্মী আরও জানান তিনি সেখানে মাস্টাররোলে কাজ করেন। এবং এসময় তিনি কম্পিউটারে বসে ইমেইলে আহসান কবীরের একটা ডকুমেন্টের কাজ করছেন এবং সেগুলো জেলা অফিসে পাঠাতে হবে।
তবে স্থানীয় ও কয়েকটি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসের ২৮ তারিখে যোগদানের পর থেকেই অনুপস্থিত।
নিরাপত্তা প্রহরী সাইফুল আযম জানান, অফিসের কাজে সদর অফিসে আছেন। উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক আহসান কবীর স্যার যখন ওএমএস কার্যক্রম ছিলো তখন আসতেন। শেষ কবে এসেছেন তা মনে নেই। কিন্তু হাজিরা খাতা আপনার কাছে কেনো জানতে চাইলে তিনি বলেন হাজিরা খাতা অফিসে দেখাতে হবে তাই।
অফিসে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক আহসান কবীরের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ব্যাস্ত আছেন পরে কথা হবে জানিয়ে ফোন রেখে দেন।
মেহেরপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুজজামান জানান, এ বিষয়ে এখন কিছু লেখার দরকার নেই। আমি বিষয়টা দেখছি।