প্রথম স্ত্রী গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে, যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও প্রতারণার দায়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় শিহাব রেজা নামের একজনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে চুয়াডাঙ্গা আদালত। গত সোমবার আত্মসমর্পন করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। শিহাব রেজা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের সহগলপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের সহগলপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে শিহাব রেজার সাথে এক বছর আগে আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচ কমলাপুর গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের মেয়ে নাহার লাকীর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবীতে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে আসছিলো প্রতারক শিহাব রেজা।
শিহাব এর আগে দুই লক্ষ টাকা যৌতুক নেওয়ার পরেও আবারো যৌতুকের দাবীতে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতন সইতে না পেরে নাহার নাকী বাদী হয়ে গত ৬/০৪/২০২৫ তারিখে চুয়াডাঙ্গা আদালতে নারী নির্যাতন ও যৌতুক আইনে একটি মামলা করেন যার মামলা নং সিআর ১৪৭ /২০২৫। গত সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গা আদালতে শিহাব রেজা আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
বাদী নাহার লাকী জানান, প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন করে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে বিয়ে করে শিহাব রেজা। প্রতারণার মাধ্যমে মেহেরপুর জেলা শহরের পাসপোর্ট অফিস এলাকায় বেশ কয়েক বছর যাবত মনির এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস ও এমএসটিসি সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার পরিচালনা করে আসছিলেন। শিহাব তার প্রতিষ্ঠানের সাইন বোর্ডকে পুঁজি করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে চড়া বেতনে বিদেশে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
আমাকে মিথ্যা কথা বলে এক বছর আগে বিয়ে করেছিল। বিয়ের সময় ব্যবসায় টাকা লাগবে বলে আমার পরিবারের নিকট থেকে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক নেন। পরবর্তীতে আবারো যৌতুক দাবি করে। যৌতুকের দাবীকৃত টাকা দিতে রাজি না হলে প্রতিদিন রাতে আমাকে শারীরিক নির্যাতন ও মারধর কর। পরে আমি জানতে পারি তার আগের স্ত্রী সন্তান আছে।
এঘটনায় স্বামী শিহাবের বিরুদ্ধে গত ৬ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গা আদালতে যৌতুক আইনে একটি মামলা করেন। যার মামলা নং-সিআর ২৪৭/২৫। মামলার পর থেকে সে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। অবশেষে ৫ মে চুয়াডাঙ্গা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল-হাজতে প্রেরণ করেছেন।