তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন বাস্তবায়নে তামাক কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। লোক দেখানো সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) এর আড়ালে নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির জন্য আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধরনের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এজন্য আইন লঙ্ঘনের দায়ে তামাক কোম্পানিকে শাস্তির আওতায় আনা হলে আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সভাকক্ষে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট যৌথভাবে আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের সমন্বয় ও সম্পৃক্তকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে কর্শশালায় আলোচনা করেন জনস্বাস্থ্য নীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের টেকনিক্যাল অফিসার আমিনুল ইসলাম সুজন, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কর্মী হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান।
অনুষ্ঠানে ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের মিডিয়া অফিসার নাজমুন নাহার নিপার সঞ্চালনায় মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার সামিউল হাসান সজীব।
প্রবন্ধে উল্লখ করা হয়, তামাক কোম্পানিগুলো আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগ্রাসীভাবে হস্তক্ষেপ করছে, বিধায় জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) এর অনুচ্ছেদ ৫.৩ অনুসারে, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ শনাক্ত করে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রচারণা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে টাস্কফোর্স কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন, সমন্বয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তামাক কোম্পানির কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র তথ্য ধরে আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, দেশের মানুষের বড়ো অংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে যাদের বেশির ভাগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ইত্যাদির মাধ্যমে কার্যক্রমের তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এসব মিডিয়ায় সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ট্যাগ ব্যবহার করা যেতে পারে।
হামিদুল ইসলাম হিল্লোল বলেন, নানাবিধ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিগত দিনে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে তামাক বিরোধী কার্যক্রমের সংবাদ ছাপা হয়েছে। বর্তমানে একই গণমাধ্যমের বহুমুখী প্লাটফর্ম রয়েছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতায় এখন প্রচলিত গণমাধ্যমের সাথে নিও মিডিয়া ও পডকাস্ট যুক্ত হয়েছে। ফলে তামাক নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের প্রচার ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট, বিষয়ভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর প্রেস-রিলিস এবং ব্যক্তি সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে গণমাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম প্রচার করতে হবে।