ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা বাজারে এক সৌদি প্রবাসীর জমি জোরপূর্ব দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। চলতি মাসের ১৯ জুলাই সৌদি প্রবাসী হায়দার আলীর জমির প্রাচীর আতিকুর রহমান ও তোতা মিয়া জোর পূর্বক ভেঙ্গে দখল করে নেয়।
এঘটনায় হায়দার আলী প্রবাসে থাকায় তার স্ত্রী লাবনী খাতুন (মিতা) থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে উল্লেখ করেন, বৈডাঙ্গা গ্রামের মোঃ হায়দার আলী দীর্ঘদিন সৌদিতে থাকেন। তিনি গত ৪ বছর আগে ৩১ নম্বর সাধুহাটি মৌজার ২৩৪৮ খতিয়ানের ৪৬৩৫নং দাগের ১৪ শতক জমির মধ্য হতে ৭ শতক জমি ক্রয়সূত্রে মালিকের নিকট থেকে বুঝিয়া নেয় এবং সীমানা নির্ধরণ করে ইটের প্রাচীর দেয়। হায়দার আলী কয়েক মাস দেশে থাকার পর গত ১৮ জুলাই আবার সৌদিতে ফিরে যায়।
এরপর ১৯ জুলাই পার্শবর্তী জামির মালিক মশিয়ারের ভাই আতিকুল এবং তোতা মিয়া সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে উক্ত প্রাচীর ভেঙ্গে দিয়ে সামনের ১১ ফিট জমি দখল করে পূনরায় নতুন প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করে। বিভিন্ন সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। বাধ্য হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন হায়দার আলীর স্ত্রী লাবনী খাতুন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন তিনি জমিটি দীর্ঘদিন ভোগ দখল করে আসছেন। জমিটি ডাকবাংলা ত্রিমোহনী বাজারের সংলগ্ন ইসলামিক ব্যাংক, ডাকবাংলা শাখার দক্ষিণ পাশে বাগাট মিষ্টান্ন ভান্ডার সংলগ্ন। এই জমি নিয়ে একটি মামলা ছিল যার নাম্বার ২২০/২৫ যাহা আদালতের রায়ে তার স্বামীর অনুকূলে হয়েছে বলে দাবি করেন।
সরেজমিনে দেখা যায় যে, মিস্ত্রিরা নতুন দেয়াল তৈরি করছেন এবং পুরানো দেয়াল ভেঙ্গে সম্পূর্ণ মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে তোতা মিয়া বলেন, এই জমিতে ১৪৪ ধারা মামলার রায়ে বলা হয়েছে যে দখল সত্ব অবস্থানে থাকার। ১৪ শতক জমির আমরা ৭ শতকে কাজ করছি বাকি ৭ শতক হায়দার আলীর রয়েছে। আমরা কারো জমি জোর করে দখল করি নাই। তবে ওখানকার উপস্থিত কেউই তাদের সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
উক্ত ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ডাকবাংলা ক্যাম্পের এসআই লিটন রাকিব বলেন, এই ঘটনা নিয়ে যেহেতু আদালতে মামলা আছে সেহেতু আদালত এই ঘটনা নিষ্পত্তি করবে। তবে তারা যে দেয়াল ভেঙ্গে ফেলেছে সেই ব্যাপারে তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে দেয়াল ভাঙ্গা বন্ধ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডাকবাংলা ক্যাম্পের এসআই লিটনের উপর দায়িত্ব অর্পণ করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।