মেহেরপুরে মালিকানা জমি অন্যত্র বিক্রি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার শিশিরপাড়া-টেঙ্গারমাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- শিশিরপাড়া-টেঙ্গারমাঠ এলাকার সবুর আলীর ছেলে জাহিদুল, আকবর ও বেদেনা খাতুন। আহত বেদেনা খাতুনের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে
আহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বদু মিয়া নামের এক ব্যক্তির ৭ বিঘা জমির একটি পরিত্যাক্ত ফার্মে মহিদুল তার পরিবার নিয়ে বসবাস করে এবং ওই জমি দেখভাল করে। সম্প্রতি সময়ে প্লট আকারে ওই জমি বিক্রি শুরু করেন বদু মিয়া। গত কয়েক মাস আগে রশিদুল ও বকুল ওই মালিকের দুটি প্লট ক্রয় করে ওখানে বসবাস করছেন। আজকে জমির মালিক প্লট দেখতে আসলে অন্যন্য প্লটগুলো বিক্রি নিয়ে মহিদুলের সঙ্গে কথাবার্তা বলছিলেন।
এমন সময় রশিদুল ও বকুল তাদের জমির পাশে থাকা জমিটি বিক্রি করা যাবে না এবং কেউ ক্রয় করলে তাকে কোন স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। এসময় সামান্য কথাকাটাকাটি হলে এক পর্যায়ে রশিদুল মহিদুলকে কিলঘুষি মারতে থাকেন। পরে মহিদুল ঘটনাটি তার আত্মীয় জাহিদুল ও আকবরকে জানালে তারা মারধরের বিষয়টি রশিদুল ও বকুলের কাছে জানতে চাইলে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দা, কুড়াল, শাবল ও লাঠি দিয়ে রশিদুল, বকুল, হৃদয়, হাবিব, মুন্না ও হাসান তাঁদের ওপর চড়াও হয় এবং জাহিদুল, আকবর ও বেদেনাকে কুপিয়ে জখম করে।
পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহত জাহিদুল ও আকবর বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বেদেনার অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফাড করা হয়েছে।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ফারুক হোসেন জানান, আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাহিদুলের মাথায় ১৪টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তার বাম হাত ভেঙ্গে গেছে, আকবরের মাথায় ৮টি সেলাই হয়েছে এবং বেদেনার মাথায় ২২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফাড করা হয়েছে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত বকুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি
এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।