
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর রাতে বামন্দী বাসস্ট্যান্ডে খোকন এন্টারপ্রাইজে চোরচক্র হানা দেয়। এসময় একজন চোর ধরা পড়লেও বাকি চোরেরা পালিয়ে যায়। পরে ধৃত ব্যক্তির কাছ থেকে নম্বর নিয়ে তার স্ত্রীর কাছে মোবাইল ফোনে কথা বলেন স্থানীয়রা। সেই সাথে চোরকে বেধে রেখে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও সেখান থেকে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। ততোক্ষণে স্থানীয়রা চোরকে পিটিয়ে হত্যা করে ফেলে রাখে।
পরে স্থানীয় বামন্দী ক্যাম্প পুলিশের একটি টীম ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। সেই সাথে মোবাইল ফোনের সুত্র ধরে চোরের পরিচয় নিশ্চিত হয়। নিহত আসাদুল আরিফের স্ত্রী তাম্মিকে গাংনী থানা পুলিশ খবর দেয়। খবর পেয়ে স্ত্রী তাম্মিসহ তার পরিবারের লোকজন থানায় এসে মঙ্গলবার রাতেই অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন। গাংনী থানার মামলা নম্বর ৮, তারিখ: ০৩/০৬/২০২৬ইং
চোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সচেতন মহলে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। অনেকেই পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা বলে দাবী করেছেন। সময় মতো পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে এ হত্যার ঘটনাটি ঘটতো না এবং চোরের জবানবন্দী নিয়ে চোর চক্রের সনাক্ত ও গ্রেফতার করা যেতো বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।
দোকান মালিক তুষার চোর নিহতের ঘটনায় কোন চক্রান্ত আছে বলে স্বীকার করেন। তিনি দাবী করেন, চোরকে আটকের পরপরই পুলিশকে খবর দেওয়ার হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি। এ সুযোগে চোরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
বামন্দী বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল আওয়াল জানান, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ক্যাম্পের দূরত্ব মাত্র ৫ মিনিটের পথ। অথচ খবর পাবার ৪/৫ ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। ততক্ষণে হত্যার ঘটনাটি ঘটে। এটা নিছক পুলিশের দায়িত্ব অবহেলা।
বামন্দী ক্যাম্প পুলিশের ইন্চার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের খবরের বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেননি। পরে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে চোর হত্যার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
গাংনী থানার ওসি তদন্ত আল মামুন জনান, নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হলে তারা রাতে এসে অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবো।