কুষ্টিয়াতে ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সব বয়সের রোগী রয়েছেন। গত কয়েকদিনে অক্রান্ত সহস্রাধিক ডায়রিয়াতে আক্রান্ত হয়েছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ১২ শয্যা বিশিষ্ট ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৬০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শয্যার তুলনায় ১৩ গুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।
হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে ওয়ার্ডের মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা। এমনকি মেঝেতেও গাদা গাদি করে বসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নার্সরা। আর রোগীর স্বজনরা খাওয়ার স্যালাইন ও ওষুধ নেওয়ার জন্য ভিড় করছেন নার্সদের টেবিলে। শয্যা ও বারান্দায় জায়গা স্বল্পতার কারণে গাদা গাদি করে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন রোগীরা।
জানা যায়, হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে মোট শয্যা সংখ্যা ১২। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৬০ জন। শয্যা স্বল্পতার কারণে বাকি ১৪৮ জন রোগী হাসপাতালের মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের মেঝেতে রাখায় অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। যাতায়াতের পথের উপরে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। শয্যা সংকটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া হাসপাতালের বর্হিবিভাগেও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগীর মধ্যে সব বয়সী মানুষ রয়েছে। ১২ বেডের এই ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৬০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছে। এখনো রোগী আসছে। রোগীর তুলনায় শয্যা সংখ্যা খুবই কম। তাই সবাইকে বেডে জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঔষধ ও স্যালাইনের কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত শয্যা ও নার্স না থাকায় রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এক রোগীর স্বজন সিহাব উদ্দিন বলেন, ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বহুগুণ বেশী। আমরা শয্যা পায়নি, আমাদের মতো অনেকেই পায়নি। এজন্য বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। এভাবে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। ডাক্তার ও নার্সদের চিকিৎসা সেবায় আগের চেয়ে অনেক সুস্থ হয়ে উঠেছে আমার ভাই। চিকিৎসাধীন রোগী ছুম্মা খাতুন বলেন, গরমের কারণে ডায়রিয়া হয়েছে। গত দু’দিন ধরে চিকিৎসাধীন আছি। শয্যা না পেয়ে খুব ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ওয়ার্ডের পথে ও মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বেডের উপর দিয়ে জুতা-স্যান্ডেল পরে চলাফেরা করছে মানুষজন। অনেক সময় আমাদের গায়ের সাথে তাদের পায়ের ধাক্কা লাগে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার বলেন, ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১৬০ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের সেবায় ব্যস্ত সময় পার করছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে প্রাপ্ত বয়স্ক রোগীদের তুলনায় শিশুরা বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। এ জন্য শিশুদের ডায়রিয়া দেখা দিলে বেশি বেশি খাওয়ার স্যালাইন, মায়ের বুকের দুধ, নরম সবজির খিচুড়ি খাওয়াতে হবে। তাহলে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। এছাড়া ডায়রিয়া সমস্যা এড়াতে বাড়তি সতর্ক হতে হবে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। রোগীর কষ্ট বেশী হলে দেরি না করে হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে ব্যবস্থা নিতে হবে।