দেশি ও হাইব্রিড জাতের আখ চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন মেহেরপুরের এনামুল হক। এনামুল হক মেহেরপুর সদর উপজেলার শালিকা গ্রামের মসজিদ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। দেশি ও হাইব্রিড আখ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তিনি। তার দেখাদেখি এখন অনেকেই আখের চাষ শুরু করেছেন।
স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে অভাব অনটনের সংসারে প্রথমে তিনি ঘরামি (টিন ও খড়ের ঘর মেরামত) কাজ করতেন। বছর পাঁচেক আগে এক বন্ধুর কথায় আখ চাষে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। পরে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার চন্দ্রবাস এলাকা থেকে সংগ্রহ করেন হাইব্রিড জাতের আখের চারা।
মাত্র ২৫০ টাকার চারা কিনে এক কাঠা জমিতে রোপন করেন তিনি। সেই চারা থেকে নিজেই চারা তৈরী শুরু করেন। পরে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরিশ্রম আর মনোবল ঘুরিয়েছে তার ভাগ্যের চাকা। নিজের জমি না থাকায় অন্যের জমি বর্গা নিয়ে প্রথমে এক বিঘা জমিতে শুরু করেছিলেন আখের চাষ।
এ জাতের আখ চাষে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি হওয়ায় তিনি পূর্বেও পেশা ছেড়ে শুরু করেন দেশি ও হাইব্রিড জাতের আখের চাষ। বর্তমানে তিনি আড়াই বিঘা জমিতে আখের চাষ করছেন। নিজের চাষ করা আখ ও আখের রস বিক্রি করে প্রতি বছর উপার্জন করছেন লাখ টাকা।
আখ চাষি এনামুল হক বলেন, অভাবের সংসারে কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। আমার এক বন্ধু আখ চাষের পরামর্শ দেন। তার কথামত মুজিবনগরের চন্দ্রবাস থেকে মাত্র ২৫০ টাকার চারা কিনে এনে আধা কাঠা জমিতে রোপন করি।
পরবর্তীতে সেখান থেকেই নিজে চারা তৈরী করে এক বিঘা জমিতে চাষ শুরু করি। পরে তিন বিঘা করেছিলাম। বর্তমানে আড়াই বিঘাতে দেশি ও হাইব্রিড জাতের আখ আছে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৩ হাজার পিস আখের চাষ করা যায়। একটি আখ ১৮-২০ ফুট লম্বা হয়।
আমি ও ছোট ছেলে শাকিল মিয়া দুজনেই পরিচর্যা করি। বাঁশ, তার, সার ও আনুষঙ্গিক খরচ হয় বিঘা প্রতি মোট প্রায় ২০ হাজার টাকা। খুচরা বা পাইকারি বিক্রি না করে নিজেই আখের রস করে বিক্রি করি। আখ চাষে সফলতা ও উপার্জন ভালো হওয়ায় একেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন তিনি।